
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
আজ (১৩ জুন, শনিবার) চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, জনদুর্ভোগ নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাজেটে জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবারগুলোকে সম্মাননা জানানো হয়েছে এবং তাদেরকে প্রতি মাসে ভাতা প্রদান করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং সরকারকে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। সেইসাথে সরকারকে বলতে চাই, জুলাই বিপ্লবের পাটাতন তৈরি হয়েছিল শাপলা চত্বরে। সেই শাপলা চত্বরের শহীদ পরিবারকেও একই সাথে স্বীকৃতি ও সম্মাননা জানানোর জোর দাবি জানাচ্ছি। যদি আপনারা সেটা করতে ব্যর্থ হন তবে প্রমাণ হবে, আপনারা ইসলাম মুসলমান ও মদীনার ইসলামের যে কথা বলেন সেটা ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছুই নয়।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার শেখ হাসিনার রাজনীতি করবেন না। আপনি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। আজ আসার পথে শুনলাম কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলছেন, জাতীয় বাজেটে মদ বিড়ির দাম বৃদ্ধি করায়… মদের উপর বিড়ির উপর কর বৃদ্ধি করায় নাকি বিরোধীদল অসন্তুষ্ট হয়েছে। আমরা পরিস্কার ভাষায় বলি, প্রধানমন্ত্রী! আপনার মুখে এরকম পাতলামি মার্কা বক্তব্য মানায় না। আপনি মদ নিষিদ্ধ করেন, জুয়া নিষিদ্ধ করেন, মাদকের আখড়া সমূলে উৎপাটন করেন; বিরোধীদল আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কিন্তু বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে রাজপথে মোকাবেলা করব।
সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বাকশাল কায়েম করতে চায় উল্লেখ বলেন, আপনারা বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবেন না। আপনারা আপনাদের নোট অব ডিসেন্ট বাস্তবায়ন করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা করছেন। আমাদের পরিস্কার বক্তব্য, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৭০% মানুষ যে ম্যান্ডেট প্রদান করেছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সে রায় বাস্তবায়ন করতে বিরোধীদল আন্দোলনের মাধ্যমে যা করতে হয় করবে।
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যে দিল্লির দাসত্বের শৃঙ্খলকে ভেঙে ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা এদেশের নতুন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে আজ দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে সেই সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সীমান্তে হত্যা হচ্ছে। আর আমাদের শিলংয়ের মন্ত্রী সাহেব সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। তিনি বলছেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার সময় হত্যা করলে সেটা সীমান্ত হত্যা নয়। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করি। আমরা আমাদের সীমান্তে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।
এছাড়াও তিনি বিজিপি নেতাকে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের নিন্দা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত কর্তৃক বাংলাদেশ ভারত এক হয়ে যাওয়া কেন্দ্রিক বক্তব্যকে মুরগির সাথে শেয়ালের বন্ধুত্ব করার বাহানা বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আরো বক্তব্য রাখেন—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আল্লামা আলী উসমান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা।