গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় লবণের মাঠগুলোতে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে হঠাৎ এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার প্রায় ৪২ হাজার প্রান্তিক লবণ চাষি।
কক্সবাজারের খুরুশকুল, চৌফলদণ্ডী, নাপিতখালী, ইসলামপুর, মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি চকরিয়া উপজেলার বদরখালী,পেকুয়া এবং টেকনাফ উপকূলের প্রায় ৬০ হাজার একর লবণের মাঠ এখন বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত। লবণের মাঠে জমে থাকা পানি ও কাদামাটির কারণে মাঠগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চাষিদের মতে, একবার বৃষ্টি হলে মাঠ শুকিয়ে পুনরায় লবণ উৎপাদনে ফিরতে অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৌসুম শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের ১৫ দিন আগেই উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১২ দিনের বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় ১ লাখ টন লবণের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
প্রান্তিক চাষিরা চড়া সুদে ঋণ ও দাদন নিয়ে লবণ চাষ শুরু করেছিলেন। এখন উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় এবং উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, নিত্যদিনের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
বৃষ্টির পানিতে মাঠের কালো পলিথিন (কাগজ) এবং গুদামজাত করার অপেক্ষায় থাকা বিপুল পরিমাণ লবণ নষ্ট হয়ে গেছে।
বাজার পরিস্থিতি ও সরকারি অবস্থান
বিসিকের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে দেশে লবণের চাহিদা ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টন। বর্তমানে মাঠ ও মিল পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার টন লবণ মজুত থাকলেও আকস্মিক এই উৎপাদন বিঘ্ন ঘটলে বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বৃষ্টির কারণে লবণ পুরোপুরি নষ্ট না হলেও উৎপাদন বন্ধ হওয়াটাই বড় ক্ষতি। আবহাওয়া উন্নত হলে চাষিরা আবার মাঠে নামতে পারবেন এবং ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যা লবণ চাষিদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।