
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা সওদাগর পাড়ায় এক চাঞ্চল্যকর জমি জবরদখল ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা নামজারী খতিয়ান আদালত কর্তৃক বাতিল হয়ে যাওয়ার আক্রোশে এক সাবেক ভাড়াটিয়া ও তার সন্তানদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন জায়গার প্রকৃত মালিক ও তার পরিবার। আজ ১৮ জুন, ২০২৬ ইং কক্সবাজারের চকরিয়া লিগ্যাল এইড অফিসে সুবিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ রোকেয়া বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হালকাকারা মৌজার বি.এস ৩৮৮নং খতিয়ানের ১৫৪নং দাগের ৫ শতক বসতভিটার মূল ওয়ারিশদার রোকেয়া বেগম ও তার স্বামী জালাল উদ্দিন। এই জমিতে পূর্বে প্রতি মাসে ২০০০/- টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন স্থানীয় বাসিন্দা বদিউল আলম। কিছু দিন পূর্বে বদিউল ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দিলে আসল সত্য সামনে আসে। জানা যায়, বদিউল জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত জমির মধ্যে ০.০৩ একর (৩ শতক) জমির একটি ভুয়া নামজারী খতিয়ান (১৮০৮/১) নিজের নামে তৈরি করে নিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে জায়গার প্রকৃত মালিকরা আদালতের শরণাপন্ন হন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নামজারী আপীল মামলা নং-৪০/২০১৫-এর মাধ্যমে গত ১৭/১২/২০১৫ খ্রিঃ তারিখে এক আদেশ মূলে বদিউল আলমের জাল খতিয়ানটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেন এবং জমিটি মূল বি.এস ৩৮৮ নং খতিয়ানে পুনঃ বহাল করার নির্দেশ দেন।
আদালতের এই রায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীপক্ষ গত ০২ জুন, ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ২:০০ টায় ধারালো দা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে জোরপূর্বক বাদিনীর বসতভিটায় ঘর নির্মাণ শুরু করে। বাদিনীর স্বামী জালাল উদ্দিন এতে বাধা দিলে বিবাদী বদিউল আলম ও তার ছেলেরা অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রডের আঘাতে বাদিনী রোকেয়া বেগমের ডান হাত ও তাঁর স্বামীর হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়।
হামলাকারীরা শুধুমাত্র মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং জালাল উদ্দিনের পকেট থেকে ব্যবসার নগদ ৯৫,০০০/- টাকা এবং একটি দামী সনি ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন (আনুমানিক মূল্য ৫৫,০০০/- টাকা) ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের চিৎকার ও জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়ার পর চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একটি পারিবারিক গোপন বংশলতিকার নথিতে দেখা যায়, এই বিরোধের শেকড় অনেক গভীরে। জমির মূল মালিক আব্দু রশিদের চতুর্থ স্ত্রী জোন্নাত আরা ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি দুটি বিয়ে করেছিলেন। বদিউল আলম মূলত জোন্নাত আরার প্রথম ঘরের স্বামী আব্দুল মজিদের সন্তান। বদিউল কোনোভাবেই আব্দু রশিদের রক্তসম্পর্কীয় বা বৈধ ওয়ারিশ নন। তা সত্ত্বেও জোন্নাত আরা তাঁর প্রথম ঘরের সন্তানকে জমি দান (হেবা) করার দাবি তুলেছিলেন, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈধ। কোনো বৈধ দলিল ছাড়া বদিউল আলম বছর ধরে প্রকৃত ওয়ারিশদের জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী রোকেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। বিবাদীপক্ষ প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চকরিয়া লিগ্যাল এইড অফিসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” এই বিষয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।