
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করেছে সংগঠনটির স্থানীয় শাখা।
পেকুয়া উপজেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় সুশৃঙ্খলভাবে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে দুর্গত মানুষের হাতে সরাসরি খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেন পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেকুয়া উপজেলা শাখার সম্মানিত আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন,অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জু, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা জয়নাল আবেদীন, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রুহুল আমিন সহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও উপজেলার কাদা-মাটি ও পানি প্লাবিত পথ পেরিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছান। সেখানে অপেক্ষমাণ অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। উপজেলা আমীর ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে নিজ হাতে প্রতিটি পরিবারের কাছে এই উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা যায়।

ত্রাণ বিতরণকালে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন: “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্বাচনী বা সাময়িক সংগঠন নয়, বরং এটি জনগণের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকা একটি আদর্শিক আন্দোলন। যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্যোগে সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।”
উপজেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জু তার বক্তব্যে বলেন,”পেকুয়ার খেটে খাওয়া মানুষ আজ চরম সংকটের মুখোমুখি। জামায়াতের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস দুর্গতদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে। আমরা সমাজের সর্বস্তরের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
ত্রাণ বিতরণ শেষে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি এবং দুর্যোগ কবলিত মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আকস্মিক এই সংকটের মুহূর্তে জামায়াতের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকার সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ।