
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ধর্ষণবিরোধী নাগরিক নেটওয়ার্ক।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেল সাড়ে চারটায় আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা দেশের সব ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনার দ্রুততম বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পল্লবীর ঘটনার পরও দেশে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই ইঙ্গিত করে। তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করা এবং দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।
ধর্ষণবিরোধী নাগরিক নেটওয়ার্কের সভাপতি মনিরা শারমিন বলেন, আমরা যদি একটি ব্যানারের নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারতাম, তাহলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হতো এবং সরকারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা যেত। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার বিচার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়, যা ন্যায়বিচারকে বিলম্বিত করে।
তিনি আরও বলেন, পল্লবীর ঘটনার পর আমরা ভেবেছিলাম এ ধরনের বর্বরতা থেমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা আরও নতুন ঘটনার সংখ্যা গুনছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ন্যাশনাল আইডিয়াল গার্লস কলেজের প্রভাষক ফারজানা আহমেদ বলেন, দেশে শিশু সুরক্ষা আইন থাকলেও তার বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে।
তিনি বলেন, যদি কোনো একটি ধর্ষণের ঘটনারও দৃষ্টান্তমূলক বিচার আমরা দেখতে পেতাম, তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে যেত।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল- চরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে-অনেক ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে না। ফলে বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
ফারজানা আহমেদ বলেন, উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে সহানুভূতি জানালেও তা ভুক্তভোগী পরিবারের শোক লাঘব করতে পারে না। আমরা এমন কঠোর আইনের বাস্তবায়ন চাই, যা অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত শিশুর প্রতিবেশী রেহানা আক্তার রুমা।
তিনি বলেন, আমি সরাসরি লাশটি দেখেছি। এখনো চোখ বন্ধ করলে সেই দৃশ্য ভেসে ওঠে। একটি মানুষ কতটা বিকৃত মানসিকতার হলে এমন পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংসতা ঘটাতে পারে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে বলেন, ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ না করে অপরাধীদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করতে হবে, যাতে সমাজ তাদের প্রতিহত করতে পারে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক রহমান আদেল, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম নায়েদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান অন্বেষাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অবিলম্বে ধর্ষণ ও হত্যার সব ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে ফেলা এবং নারী ও শিশু সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।