
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
সাম্প্রতিক সময়ে লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে লবণের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বিক্রয়মূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক চাষী এখন দিশেহারা।
লবণ উৎপাদনের প্রধান উপকরণগুলোর দাম গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পলিথিন, পাম্পের জ্বালানি (ডিজেল), এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে লবণের দাম না বেড়ে উল্টো কমে গেছে। ফলে চাষীরা লভ্যাংশ তো দূরের কথা, মূল পুঁজি তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
লবণ চাষ মূলত আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে কয়েক দফায় অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে মাঠের লবণ গলে যাওয়ায় চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। বারবার মাঠ প্রস্তুত করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণের মৌসুম সংকুচিত হয়ে আসাও একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
মাঠপর্যায়ে লবণের দাম কম থাকলেও খুচরা বাজারে বা প্যাকেটজাত লবণের দাম বেশ চড়া। চাষীরা সরাসরি বাজারে প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের কাছে কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে লভ্যাংশের বড় অংশ চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের পকেটে, আর প্রকৃত উৎপাদনকারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
চাষীদের অভিযোগ, লবণের ভরা মৌসুমেও শিল্প ব্যবহারের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশি লবণের চাহিদা কমে যায়। এতে স্থানীয় চাষীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন এবং বাজারে লবণের কৃত্রিম দরপতন ঘটে।
উপকূলীয় জেলাগুলোর কয়েক হাজার পরিবার সরাসরি লবণ চাষের ওপর নির্ভরশীল। উৎপাদন খরচ না ওঠায় অনেক চাষী ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে অনেক চাষী লবণ চাষ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে পারেন, যা দেশীয় লবণের স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
উত্তরণের সম্ভাব্য উপায়:
ন্যূনতম সমর্থন মূল্য নির্ধারণ:সরকার কর্তৃক লবণের একটি নির্দিষ্ট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া।
লবণ বোর্ড গঠন:চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর লবণ বোর্ড বা কর্তৃপক্ষ সক্রিয় করা।
ঋণ সুবিধা:ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা।
আমদানি নিয়ন্ত্রণ:দেশি লবণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে লবণের মৌসুমে বিদেশ থেকে লবণ আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা।
লবণ শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। চাষীদের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রান্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই লবণ চাষীদের রক্ষা করতে এবং এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।