
কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট Joseph Aoun যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio-এর সঙ্গে আলোচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি ও লেবাননের সামরিক প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে বৈঠকে অংশ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, সংঘর্ষের বিস্তার ঠেকানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন তার বক্তব্যে বলেন, চলমান সংঘাত কেবল দুই দেশের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে “অত্যন্ত জরুরি” উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দিয়েছেন। ওয়াশিংটন আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় রয়েছে।
পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ সামরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও স্থায়ী করতে হলে উভয় পক্ষের আন্তরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সূত্র: আর জাজিরা।