
প্রশ্নঃ
খতীব, ইমামতি ও মুয়াজ্জেন এর বেতন ভাতা নেওয়ার শরয়ী হুকুম কী?
উত্তরঃ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রামাতুল্লাহ।মুহতারাম! খতীব, ইমামতি ও মুয়াজ্জিন এর পারিশ্রমিক গ্রহণ সম্পর্কে ইমামদের মতভেদ ছিল।শাফেয়ী ও হান্বলী মাজহাব মতে জায়েয।
হানাফী, যুহরী ও কাজী শুরাইহ এর মতে ইবাদতের পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নাই।কারণ ইসলামের প্রথম যুগে এদের সম্মান জনক বেতন ভাতা সরকারী রাজ কোষাগার তথা বায়তুলমাল থেকে প্রদান করা হত।পরবর্তী সময়ে ইসলামী সরকারের অনুপস্থিত বা কোন মুসলিম শাসকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তা বন্ধ করে
করে দেয়া হয়।এতে জীবন যাপনের তাড়নায় আলেমগণ অন্য পেশায় ধাবিত হলে সময়মত আযান, ইক্বামত ও জমায়াত ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃংখলা দেখা দেয়। এমনকি অনেকই জামায়াতে শামিল হতে পারে না।অথচ জমায়াতে নামায আদায় করা ওয়াজিব, কারো মতে সুন্নাতে মুয়াক্বাদাহ আর কারো মতে ফরয।
আর ইমাম নির্ধারিত না থাকলে জমায়াতে নামাযের ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকতে পারে না।পরিপূর্ণ শৃংখলার সাথে নামায আদায় করা সম্ভবপর নহে।তাই মুতায়াখ্খেরীন সকল ফুকাহায়ে কিরাম শাফেয়ী ও হান্বলী মাজহাব মতে পারিশ্রমিক হিসাবে সম্মানজনক বেতন ভাতা গ্রহণ করা জায়েয ফতোয়া প্রদান করেছেন।এবং সাথে কুরআন মাজীদ, হাদিস শরীফ, ইলমে ফিকহ ও ইলমে কালাম ইত্যাদি শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়ে বেতন ভাতা গ্রহণের বিষয়টাও জায়েয হওয়ার বিষয় সুস্পষ্ট ভাবে ফতোয়া প্রদান করেন।কারণ এ গুলোর উপর ইসলাম ধর্মের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। আর বর্তমানে যে নাম মাত্র বেতন ভাতা দেওয়া তা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মানহানিকর বিষয়।তাই সরকার ঘোষিত বেতন স্কেল অনুসারে বেতন ভাতা প্রদান করা সকল মসজিদ কমিটি ও মহল্লাবাসীর নৈতিক কর্তব্য।কারণ অভাবের চিন্তা ও অভূক্ত অবস্থায় ইবাদতে একাগ্রতা বিনষ্ট হয়, যা চির সত্য। এ বেতন ভাতা নিয়ে সংসার চালাতে নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে।আশা করি সকল মুসলমানদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং সম্মানজনক বেতনভাতা প্রদান করে ইবাদত মকবুল হওয়ার পথ সুগম করবেন।
সচ্চলতা থাকা সত্বেও তাদের বেতন ভাতা কম দেওয়া অন্যায় ও এক প্রকার জুলুমএবং আল্লাহর দরবারে এ বিষয়ে জবাবদিহী করতে হবে।এবং ক্বিয়ামতের দিন জালেমের অন্তর্ভূক্ত হয়ে হাশর নশর হবে।
তথ্যসূত্র
দ্বীনি খিদমাত আওর মুয়াভেযা ১৭৬ পৃষ্ঠা,আল মুয়ামালাতুল মালিয়্যাহ, গুনইয়া ৮৬৯ পৃষ্ঠা,ফতোয়ায়ে শামী ২য় ৭৮ পৃঃ,দুররুল মুখতার ৩য় ৩৮৯ পৃষ্ঠা,জামে সগীর ১ম ১৪৫ পৃঃ,ফতোয়ায়ে রহিমিয়া ৪র্থ ৩৫৫ পৃঃ,৪২৭ পৃঃ,ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৩য় ৩২০ পৃঃ,৩য় ৮৭ পৃষ্ঠা।
সার্বিক সহযোগীতায়
আলহাজ্ব শাহ মাওলানা আবদুল হাই নিজামী মঃজিঃআঃ
প্রধান মুহাদ্দিস ও ফকীহ
চুনতি হাকিমিয়া আলীয়া মাদ্রাসা লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
লিখক
মুফতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
পহরচাঁদা ফাজিল মাদ্রাসা চকরিয়া,কক্সবাজার।
০১৮১৮০২৫১৭২