
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
আজ ১১ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দশম শাহাদত বার্ষিকী। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে এ দিন তাকে হত্যা করে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন, শীর্ষ ইসলামী ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন দেশের সমালোচনা ও ফাঁসি কার্যকর না করার অনুরোধ উপেক্ষা করে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে জুলুমবাজ সরকার। ফরমায়েশী তদন্ত, অসংলগ্নতা তথ্য উপাত্ত প্রদান ও বেআইনীভাবে হত্যার আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়।
শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ইতিহাসের এক উজ্জ¦ল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ, সুলেখক, ইসলামপ্রিয় জনগণের রুহানি উস্তাদ ও বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ। ২০১৫ সালে আমেরিকার বিখ্যাত সংস্থা “দ্য রয়েল ইসলামিক স্টাডিজ সেন্টার” প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ, সাক্ষ্য গ্রহণ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে ছিল নানা অসঙ্গতি। কোন ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
মাওলানা নিজামীর সংক্ষিপ্ত জীবনী: মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতা, দেশের গণমানুষের নেতা। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রসেনানী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণমানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই ব্যক্তিত্ব মুক্তিকামী ও মজলুম মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাওলানা নিজামীর বলিষ্ঠ ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদাকে বহির্বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল ও উন্নত করেছে।
মাওলানা নিজামী দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পর্যায়ক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে দেশের ইতিহাসে সৃষ্টি করেছেন এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মাওলানা নিজামী কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি যে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে গতিশীল ও সার্থক করে তুলতে যে যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন তা এক অনন্য ও অনুসরণীয় অধ্যায়। মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তার বিরুদ্ধে সামান্যতম দুর্নীতিরও অভিযোগ ওঠেনি।
মাওলানা নিজামী ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে পাবনার সাঁথিয়া-বেড়া এলাকার গণমানুষের প্রতিনিধি তথা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ৩৭ হাজার ৮শ ৬৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদে যোগদান করেন।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৪৩ সালের ৩১ মার্চ পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মনমথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম লুৎফর রহমান খান একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও খোদাভীরু লোক ছিলেন। ফলে বাল্যকাল থেকেই মাওলানা নিজামী ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে গড়ে ওঠার সুযোগ লাভ করেন।
১৯৬১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে তিনি ছাত্রআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে থাকেন। ঐ সময় মাদরাসা-ছাত্ররা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য আন্দোলন করছিল। ১৯৬২-৬৩ সালে এ-আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে। কামিল শেষবর্ষের ছাত্র মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী মাদরাসা-ছাত্র হিসেবে মাদরাসা-ছাত্রদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৬২-৬৬ সাল পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় অফিস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে মাওলানা নিজামীর ওপর পূর্বপাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতির দায়িত্ব অর্পিত হয়। এ-সময় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল সংঘাতমুখর। পরপর তিন বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি (নাজেমে আ’লা) নির্বাচিত হন। পর পর দু’বছর তিনি এ-দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান:
ছাত্রজীবন শেষে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ১৯৭১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর আমীর ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে ১৯৭৯-১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি সংগঠনের এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল মনোনীত হন এবং ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এ-দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা ১২ বছর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০০ সালের ১৯ নভেম্বর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর নির্বাচিত হন। ২০০১-২০০৩, ২০০৪-২০০৬, ২০০৭-২০০৯ সেশনে আমীরের দায়িত্ব পালনের পর ২০১০-২০১২ সেশনের জন্য তিনি পুনরায় আমীর নির্বাচিত হন। আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়ই ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার হন তিনি
গণআন্দোলনে মাওলানা নিজামী:
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের প্রতিটি গণআন্দোলনে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮২-৯০ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে যে প্রচণ্ড গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, এ-আন্দোলনে মাওলানা নিজামী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন। ফলে একাধিকবার তিনি স্বৈরশাসকের আক্রোশের শিকার হন। তার সাহসী নেতৃত্বের কারণে স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড গণপ্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং ১৯৯০ সালে জাতি অপশাসনের হাত থেকে মুক্তি লাভ করে। ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রদত্ত ফর্মুলা অনুযায়ী নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের এই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে সংসদে মাওলানা নিজামী বিল উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে সংসদের ভিতরে ও বাইরে জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে কেয়ারটেকার সরকারের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মাওলানা নিজামীর সংগ্রামী ভূমিকা জাতির জন্য নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। তার নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিসমূহ আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১/১১ জরুরী সরকারের সময়েও তিনি এর বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম এ ধরনের সরকারের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদদের মধ্যে প্রথম কথা বলেন। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনেও নেতৃত্ব দেন মাওলানা নিজামী।
বিশ্বরাজনীতিতে মাওলানা নিজামী:
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে বিশ্বরাজনীতির সাথে মাওলানা নিজামীর রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। নানান গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে মাওলানা নিজামীর ভূমিকা প্রসংশিত হয়েছে।
২০০২ সালের ২৭ মার্চ মুসলিম দুনিয়ার বিখ্যাত চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ডক্টর ইউসুফ আল কারযাভীর নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের দশজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা নিজামীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
২০০২ এর ১১ এপ্রিল মাওলানা নিজামী রাবেতা আল আলম আল ইসলামীর সম্মেলনে যোগদান করেন এবং সৌদি গেজেট পত্রিকায় সাক্ষাৎকার প্রদান করেন।
২০০৩ সালের ১৫-১৭ অক্টোবর চীনে অনুষ্ঠিত Sustained Elimination of lodine Deficiency Disorder শীর্ষক সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।
২০০৬ সালে মাওলানা নিজামী ইংল্যান্ডের শীর্ষ বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ ফোরাম চেথম হাউজের আমন্ত্রণে ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহ : জামায়াতের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে তিনি এ-সংক্রান্ত একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ বৈঠকে বৃটেনের বিশিষ্ট নীতিনির্ধারক বুদ্ধিজীবী, কূটনৈতিকবৃন্দ, পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা নিজামী উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
উল্লেখ্য যে, চেথম হাউজ বৃটেনের অন্যতম শীর্ষ নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ ফোরাম, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখে থাকেন। মাওলানা নিজামী প্রথম বাংলাদেশী নেতা, যিনি চেথম হাউজের আমন্ত্রণে সেখানে বক্তব্য রাখেন।
২০০৬ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত রাবেতা আল আলম আল ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক ওলামা সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে যোগদান করেন। তিনি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ (রাবেতা), সেন্ট্রাল কো-অর্ডিনেশন কমিটির স্থায়ী সদস্য। মুসলিম উম্মা তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০০৯ সালের ইউএসএভিত্তিক “দ্যা রয়েল ইসলামিক স্ট্রাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার কর্তৃক বিশ্বের শীর্ষ ৫০জন ব্যক্তিত্বের মধ্যে মাওলানা নিজামীকে নির্বাচন করে।
পারিবারিক জীবন:
১৯৭৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর শামসুন্নাহারের সাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। শামসুন্নাহার নিজামী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগ থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনিও ছাত্র জীবন থেকে ইসলামী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে।
পরিবারের অনুভূতি:
দশম শাহাদত বার্ষিকীতে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী বলেন, আজ স্মৃতিচারণ করতে বসে আমার মনে হচ্ছে, আমার যতটুকু কাজ করা সম্ভব হয়েছে, সবই আমার স্বামীর অবদান। তিনি বলেন, “তিনি শুধু সংগঠন আন্দোলনের কাজেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাই না। বরং সংসারে তিনি ছিলেন আমার দৃষ্টিতে একজন আদর্শ স্বামী, আদর্শ পিতা। আমার ও আমার সন্তানদের দৃষ্টিতে রাসূল (সা:) এর স্বার্থক অনুসারী।”
মাওলানা নিজামীর বড় ছেলে ড. মোহাম্মদ নাকিবুর রহমান বলেন,“ আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে আমার বাবা, মতিউর রহমান নিজামীকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। এক দশক পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এমন একটা দিনও যায় না যেদিন তার স্মৃতি আমার চিন্তা, মূল্যবোধ আর জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে না।”
মাওলানা নিজামীর আরেক সন্তান ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এখন তারই সংসদীয় আসন পাবনা-১ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আব্বুর শাহাদতের কয়েকদিন পর, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার আমাকে ফোন করে তার অফিসে যাওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। আমাদের সাক্ষাতের সময় তিনি বললেন: ‘আপনার বাবা অত্যন্ত শান্তভাবে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কালিমা পাঠ করতে করতে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। চলে যাওয়ার আগে তিনি আমাকে কাছে ডাকলেন, তার চশমা এবং হাতঘড়িটি আমার হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন, “দয়া করে এগুলো আমার ছেলে মোমেনকে দিয়ে দেবেন।” আজ আমি আপনাকে এখানে ডেকেছি কারণ আব্বুর রেখে যাওয়া এই আমানত আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনার হাতে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।’
সন্তানদের জন্য মাওলানা নিজামীর অসিয়ত:
মাওলানা নিজামী শাহাদতের আগে সন্তানদের উদ্দেশে একটি লিখিত অসিয়তনামা রেখে গিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল: ‘আমার অত্যন্ত আদরের সন্তানেরা মহসিনা, তারেক, মোমেন, খালেদ, খাদিজা এবং তালহা-তোমাদের প্রত্যেকেই আমার কাছে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয়। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমাদের জন্য আমার আন্তরিক দোয়া রইল। তোমরা ভাই-বোনেরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থেকো। আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা.) পথ অনুসরণ করো। তোমাদের মায়ের সেবা করো অত্যন্ত ভক্তি ও যত্নের সাথে। তার মাঝেই তোমরা তোমাদের বাবাকে খুঁজে পাবে। আর তোমাদের মা যেন তোমাদের প্রত্যেকের মাঝে তোমাদের বাবার ছায়া দেখতে পান। তোমাদের আব্বু, সবসময় তোমাদের জন্য দোয়ায় রত।