
কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর গতকাল বুধবার ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে অবশ্যই হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং হিজবুল্লাহর মতো কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতি সেখানে থাকবে না।
উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার দিনের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।
যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হিজবুল্লাহর হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর নতুন করে হামলা শুরুর পর এটি ছিল দুদেশের কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি বৈঠক।
বিবৃতি অনুযায়ী, ২২ জুন বা তার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে।
সংঘাত অব্যাহত
দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি লেবানন সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আলোচনাকে আলাদা রাখতে চান। কিন্তু তেহরান মনে করে, এই দুটি সংঘাতই পরস্পর যুক্ত। এমনকি বৈরুতে হামলা হলে ‘পুরোদমে যুদ্ধ’ শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ইসরায়েলি আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন ও দুটি রকেট তারা ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননে সংঘাত থামাতে গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করে আসছে।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কোমতি মঙ্গলবার এএফপিকে বলেন, তারা কোনো ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি’ মেনে নেবেন না।
স্বাস্থ্যকর্মী ও সেনাসদস্যদের ওপর হামলা
বুধবার লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রধান মহাসড়কে একটি গাড়ির ওপর হামলা ছাড়াও দক্ষিণ লেবাননের ২০টিরও বেশি জায়গায় বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি গ্রামে হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টায়ার শহরের নিকটবর্তী আল-হাওশ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চার সিরীয় এবং দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘এই এলাকায় এ ধরনের কোনো হামলার খবর আমাদের জানা নেই।’
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের অন্য একটি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে চালানো হামলায় রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি হিজবুল্লাহর মিত্র আমাল মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত।
হামলায় বিধ্বস্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সের ছবি প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়, যেখানে দেখা যায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মাস্ক রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের এক সেনাসদস্যের প্রাণ গেছে এবং একটি সামরিক যানে পৃথক হামলায় একজন কর্মকর্তাসহ আরও এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
সেনাবাহিনী একে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।