
কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
ইরান বুধবার ভোরে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, আর একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। যুদ্ধটি এখন প্রায় ১০০ দিনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, বারবার হামলা চালিয়েছে। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সশস্ত্র সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে সর্বশেষ এই উত্তেজনা আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
কুয়েত ও বাহরাইনে কী ঘটেছে?
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন ভারতীয় আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়,“নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের সহায়তায় আমাদের দূতাবাস সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি।”
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, কুয়েতের দিকে ছোড়া ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়ে মাঝপথে ভেঙে পড়ে বা পথচ্যুত হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থানরত মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর কথাই উল্লেখ করেছে।
নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, আইআরজিসি (IRGC) যেসব মার্কিন হেলিকপ্টারকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছিল কি না, অথবা প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ দুর্ঘটনাবশত বিমানবন্দরে পড়েছিল কি না।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত একটি বিমানঘাঁটি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। হামলার সতর্কতা হিসেবে সেখানে সাইরেন বাজানো হয়।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, বাহরাইনের দিকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েত ও বাহরাইনে হামলায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য বা সামরিক সম্পদের ক্ষতি হয়নি বলেও দাবি করেছে তারা।
ইরানও কি হামলার শিকার হয়েছে?
ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কেশম (Qeshm) দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়। ধারণা করা হয়, দ্বীপটিতে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ইরানি ড্রোনও তারা ভূপাতিত করেছে।
অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে, যাতে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী “পানায়া” নামের একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তাহলে প্রথমে হামলা করেছে কে?
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্য ভিন্ন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানি বন্দর ও জাহাজ অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের তেল পরিবহন করতে দেবে না।
বুধবারের উত্তেজনা সম্ভবত একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী ঘটনাক্রম ছিল এমন:
* যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালায়।
* এরপর ইরান উপসাগরে থাকা অন্যান্য জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে।
* যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা ওই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করে এবং পরে কেশম দ্বীপে হামলা চালায়।
* এর জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।
বুধবারের ঘটনাবলি নিয়ে ইরান কী বলেছে?
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
তারা অভিযোগ করেছে, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের ভূখণ্ড ও স্থাপনা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেছে। এজন্য দেশ দুটিকে “সরাসরি ও স্পষ্টভাবে দায়ী” বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরান বলেছে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার উৎসকে লক্ষ্য করে তারা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আইআরজিসির উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, “হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।”
কূটনৈতিক পরিস্থিতি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio মঙ্গলবার আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরান যদি তার পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি ত্যাগ করে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হবে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ হয়েছে।” তবে নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর Cory Booker এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
রুবিও আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei জীবিত আছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ক্রমেই বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তিনি তার পিতা Ali Khamenei-এর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেহরান বর্তমানে বিলিয়ন ডলারের তেল আয়ে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ছাড়, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
ইরানের প্রধান আলোচক Mohammad Bagher Ghalibaf বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা থেকে সরে এসে মুখোমুখি সংঘাতের পথ বেছে নিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কীভাবে উত্তেজনা বেড়েছে?
যুদ্ধবিরতির পর কয়েক সপ্তাহ তুলনামূলক শান্ত থাকার পর সম্প্রতি আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে।
রবিবার রাতে সেন্টকম জানায়, তারা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে ইরানের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।
পরদিন কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ফল বলে জানানো হয়।
এর আগে ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত হয়নি এবং বিকিরণের মাত্রাও স্বাভাবিক ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা প্রতিবেদন।
Aussie punters can play thepokie net around the clock, with hundreds of pokies from leading software providers.
Try this — https://tower.bet/game/royale-house for real money casino play