
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগের ফ্যাসিবাদের আলোকেই সবকিছু রাখতে চায় সরকার। এজন্যই তারা গণভোটের গণরায়ও মানতে চান না।
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- এ রায় বাস্তবায়ন বাংলার জমিনে হবে ইনশাআল্লাহ। জনগণকে অপমান করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ৭০ ভাগ মানুষ যেখানে রায় দিয়েছে এই রায় অবশ্যই আল্লাহর মেহেরবানিতে বাস্তবায়ন হবে। আমরা লড়াই করব সংসদের ভিতরে, লড়াই করব রাজপথে। যদি সংসদে আদায় হয় আলহামদুলিল্লাহ, যদি না হয় তাহলে রাজপথেই লড়াই করে আন্দোলন করে সেই দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। কোন ছাড় নাই, কোন ধানাই পানাই মানবো না।
তিনি রোববার বিকালে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাবি শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় স্লোগান ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আমরা বৈষম্য চাই না, আমরা ন্যায়বিচার চাই। ন্যায়বিচারের জন্য বিচার বিভাগটা স্বাধীন হবে। এই সরকার, নির্বাচন হওয়ার আগে সবাই চিৎকার দিলাম- বর্তমান সরকারি দল বলল, আমরাও বললাম। এখন নির্বাচন হয়েছে এখন আর সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ চায় না, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চায় না, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চায় না। শক্তিশালী গুম কমিশন চায় না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চায় না। আগের ফ্যাসিবাদের আলোকেই তারা সবকিছু রাখতে চায়। এইজন্যই তারা গণভোটের গণরায়ও মানতে চান না।
তিনি বলেন, অনেক লোভ-টোপ আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে সবগুলো আমরা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা বলে দিয়েছি জনগণের সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না। জনগণের রায়কে অপমান করব না, আর যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়, জনগণ নির্বাচনি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা হারাবে। জনগণ ধিক্কার দেবে। সেই ধিক্কারের পাত্র বিরোধী দল হতে চায় না। এ দায়িত্ব আমরা নেব না। এজন্যই আমাদের লড়াই আমাদের সংগ্রাম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন অনেকেই বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন স্বৈরশাসকের ভাষায়। তাদের চেলা চামুণ্ডারা কথা বলে, বট বাহিনীরা মানুষের ইজ্জত নিয়ে খেলা করে। আবার সেই ফ্যাসিবাদ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হবে না, বন্ধুগণ এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। গণরুম গেস্টরুমের কবর হয়ে গেছে ২৪-এ, এটা আর ফিরে আসবে না। এখন যদি কেউ ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে তাদেরকেই ফিরায়ে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আর হবে না।
তিনি বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক অপচর্চার কবল থেকে মুক্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক জায়গায় অনেক কিছু করা হচ্ছে, আমরা চুপচাপ আছি, মনে করবেন না আমরা ঘুমিয়ে গেছি। সমুদ্রে যখন নিম্নচাপ তৈরি হয় তখন তার অনিবার্য ফসল হচ্ছে পরবর্তী একটা ঘূর্ণিঝড়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। কোনো অপশক্তির কাছে মাথাও নত করা হবে না। এটা দেশীয় আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক যাই হোক। ইনশাআল্লাহ যুবকদের প্রত্যাশার আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে দেওয়ার জন্য আমাদের বাকি জীবনকে আমরা উজাড় করে দেব। আবার যুবক হয়ে লড়াইও করব যুবকদের সঙ্গে ইনশাআল্লাহ। যুবকদের হাত ধরে যুবকদের সঙ্গে সম্মুখ ভাগে থেকে মুক্তির আন্দোলন চলবে ইনশাআল্লাহ। এ আন্দোলন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। আজকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে এই ওয়াদা আরেকবার করে গেলাম। তিনি এ ধরনের প্রদর্শনীর জন্য ঢাবি শিবিরকে ধন্যবাদ জানান।
সূত্রমতে, গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’শীর্ষক তিন দিনব্যাপী বিশেষ এ চিত্রপ্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
আয়োজকরা জানান, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য আহতের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতিচারণ, আলোকচিত্র, তৎকালীন নিপীড়নের বিভিন্ন দলিল, জুলাই আন্দোলনের স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন স্থান পায়। জুলাই বিপ্লবের নানা স্মৃতি বিজড়িত প্রদর্শনীটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচিত হয়।