
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটে জনগণ প্রায় ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে,ওই গণভোট না থাকলে এই সরকারও মানা হবে না। গণভোটকে ব্যর্থ করে দিলে আপনাদের ব্যর্থ করে দেয়া হবে। গণভোট মানতে জনগণ বাধ্য করবে।
তিনি বলেন, ধোকার পথে পা বাড়াবেন না। আমাদের সাফ কথা গণভোটের গণরায় মানতেই হবে। যারা গণভোটের ভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র মানে না, এরা গণতন্ত্রের শত্রু। আমরা চাই ফিরে আসুন, জনগণের রায়ের প্রতি আপনার সম্মান করুন। বৈষম্যের জন্য জুলাই হয়নি, বৈষম্যের কবর রচনার জন্য জুলাই হয়েছিল। সময় থাকতে সচেতন হন, মানুষের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন, বলেন আমীরে জামায়াত।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আজ ১৮ জুলাই শনিবার বিকেলে বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত এদেশের মানুষ জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে আয়নাঘরের সঙ্গী হয়েছে। মামলায় জেলে গিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে, স্বামী হারিয়েছে কিন্তু ফ্যাসিবাদের কাছে মাথানত করেনি। ফ্যাসিবাদকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আপনারা ডামি ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হতে পারবেন না। যেসকল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, বিএনপি তার সবগুলো রেখে দিয়েছে। এটি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কিছু নেই। এটি অবৈধ। কোনো ভাঁওতাবাজি করলে জাতি তাদের ছেড়ে কথা বলবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা অতীতের পচা রাজনীতি চাই না, পরিবর্তন চাই। নতুন শাসন ব্যবস্থা চাই। নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আপসোস! বর্তমান সরকারি দল বলেছিল অধিকাংশ জনগণ যদি হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দেয় তাহলে-আমরা গণভোটের প্রত্যেকটি দাবি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব। কিন্তু যখন হ্যাঁ বিজয়ী হলো এবং ম্যাকানিজম করে তারা ক্ষমতায় গিয়ে হ্যাঁ ভুলে গেলেন। তারা সংস্কারের কথা বলেননি বলে সরকারি দলের দাবিকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন আমীরে জামায়াত।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধন করার জন্য গঠিত কমিটিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছি। তারা এই কমিটিকে এখন বিশেষ কমিটি বলছেন। জনগণের সাথে আর কত ছলচাতুরি, ধোকাবাজি করবে সরকার সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। পদে পদে মিথ্যা বলা ও ধোকাবাজির পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
তিনি বলেন, চব্বিশ টানতে গিয়ে ৭১ টানতে হবে কেন? চব্বিশ থাকবে চব্বিশের মর্যাদায়, ৭১ থাকবে তার মর্যাদায়। চব্বিশ হারিয়ে যেতে দেবো না আমরা। চব্বিশের বীরদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করতে হবে। সে শহীদ কিংবা গাজী হোক, চব্বিশ নিয়ে কোনো অবহেলা জাতি বরদাশত করবে না, সতর্ক করেন আমীরে জামায়াত।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের ঐতিহ্য নিয়ে গড়ে উঠা জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে কোনো পরিবর্তন করা হলে আমরা আবার গর্জন করব। আমরা চুপ থাকবো না তার প্রতিবাদ করব। ঐতিহ্য গায়েব করা হয়ে থাকলে-তার ষোলো আনা আদায় করে ছাড়ব। জুলাইকে ধামাচাপা দিতে কত কসরত!
তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের যাঁতাকলে জনগণ পিষ্ট। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে ট্যাক্স বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড দিবেন আড়াই হাজার, দাম বাড়িয়েছেন ৫ হাজার। সরকার কীভাবে এটি পুষিয়ে দেবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি।
সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় যদি মেনে না নেন, তাহলে ঢাকার মহাসবেশের জন্য প্রস্তুত থাকুন। জনগণ প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হবে। এর আগে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গণভোটের রায় মেনে নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমীরে জামায়াত।
তিনি আরও বলেন, ভোলা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। ভোলাবাসীর ন্যায্য পাওনা একটি সেতু। সেটি এখনো এখনো কেন একনেকে উঠেনি- এর জবাব আমরা চাই। বরিশালবাসী রেললাইনের গল্প শুনেছে, রেললাইন দেখেনি। বরিশালে রেললাইন দিতে হবে। বরিশালকে বঞ্চিত রেখে সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাদের পাওনা দিতে হবে- তাহলে সুষম উন্নয়ন হবে। আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব। যেখানে বঞ্চনা সেখানে আওয়াজ তুলবো, ইনশাআল্লাহ।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা চব্বিশের তরুণ প্রজন্ম ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হব। আমরা এখনো হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দিইনি; তবে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে, সতর্ক করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও বাস্তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই রায়কে উপেক্ষা করে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রহসন মেনে নেওয়া হবে না।
নাহিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনো বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে পারে না। দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আজ ১৮ জুলাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে বহু ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছিলেন। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, আওয়ামী লীগের ফেরার কোনো সুযোগ নেই।, তাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে আমরা কান দেবো না। আমরা চাই এদেশ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাস্তানি বন্ধ হোক। কিন্তু বিএনপি এসব শুনছে না। তারা আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেয়নি, বলেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে হ্যাঁ- এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। জনগণ চেয়েছিল সংবিধান সংস্কার করে আগামী দিনে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ কায়েম করার জন্য। কিন্তু আমরা দেখলাম বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে থার্ড মেজরিটির গরমে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে এক তরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে। এই সমাবেশ থেকে সরকার গঠিত খেলনা সংবিধান সংশোধন কমিটি প্রত্যাখ্যান করলাম।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক রূপ দেওয়ার জন্য গণভোটে প্রায় ৬৯% মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং, এই সংবিধানকে সংস্কার করার জন্য ৬৯ শতাংশ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করা যাবে না। আর ৭২-এর সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান না- সেটা আওয়ামী লীগের সংবিধান। এটি চলতে দেওয়া যায় না। আমরা চলতে দেব না। আমরা ৭২-এর সংবিধান বাংলাদেশে চলতে দেব না, দিতে পারি না।
এবি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটেছে, তা শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ঘটনা নয়; এটি গত আটশ বছরের বাংলা অঞ্চলের ইতিহাসেও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যারা মনে করছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বুক চিতিয়ে, বুলেটকে সামনে রেখে, শত বাধা উপেক্ষা করে যারা বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদ এবং দিল্লির আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করেছে—তাদের ভয় দেখানোর জন্য বিদেশি গণমাধ্যমে রাতের আঁধারে সাক্ষাৎকার দিলেই বাংলাদেশের মানুষ ভয় পেয়ে যাবে, তারা ভুল করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা, বিকৃতি বা শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে খাটো করার বিরুদ্ধে সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বাকশাল ও ভারতীয় অধিপত্যবাদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছিলাম। ৫ আগস্টের পর তারা চাঁদাবাজিতে নতুনত্ব এনেছে, আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর গুম কমিশনকেই গুম করে ফেলেছে। বিএনপি আওয়ামী লীগের মতোই সব অপকর্ম করে যাচ্ছে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চাপ দিয়ে চাঁদা দাবি করে- তাদের কাছে উন্নয়ন দাবি করে কোনো লাভ নেই। যারা কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, যারা জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি করে, তাদের সাথে কোনো আপস নেই, মুনাফিকদের সাথে আপস নেই।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, বাংলাদেশের সামনে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার, সুশাসন, গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। জনগণের সকল অধিকার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি আদায়ে আমি দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, নিয়োগ বাণিজ্য চলছে। যারা নির্বাচনের আগে ওয়াদা দেন একরকম, আর কাজ করেন ভিন্ন- তারাই মুনাফিক। বরিশালের উন্নয়নে জাতীয় সংসদে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরায় প্রধান অতিথি ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল অঞ্চল জামায়াতের টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নাল আবদীন, বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবদুল জব্বার, বিএম কলেজের সাবেক এজিএস শেখ নেয়ামুল করিমসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি(বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠন আরিফুল ইসলাম আদিব, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।