
শেখ আহমদ মিরাজ স্পোর্টস সম্পাদক।
মরুভূমির তপ্ত বালুকা ফুঁড়ে অবশেষে ফুটল এক সোনালি গোলাপ। যে চোখে কদিন আগেও ছিল এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু হাতছাড়ার নীল বেদনা, সেই চোখেই এবার ঝরল শ্রাবণের ধারা। তবে তা বিষাদের নয়, পরম প্রাপ্তির আনন্দ অশ্রু। সব সমালোচনা আর অপবাদের প্রাচীর ভেঙে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসর মেতে উঠল রাজ্যাভিষেকের উল্লাসে।

দামাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দীর্ঘ ছয় মৌসুমের খরা কাটিয়ে সৌদি প্রো লিগের চ্যাম্পিয়ন এখন আল নাসর। ইউরোপের সবুজ ঘাসে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোজয়ী তারকা সৌদি আরবে এসেছিলেন এক নতুন বিপ্লবের মশাল হাতে। কিন্তু গত দেড় বছর ব্যক্তিগত কীর্তিতে আলো ছড়ালেও, ট্রফি ক্যাবিনেট ছিল খাঁখাঁ মরুভূমি। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
আল আওয়াল পার্কেও শেষ বাঁশি বাজতেই হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লেন সিআর সেভেন। শূন্যে আঙুল তুলে গ্যালারিতে থাকা পরিবারকে যখন খুঁজছিলেন, তখন তার দুচোখ বেয়ে নামছিল এক মহাসম্রাটের আবেগঘন অশ্রু। কে ভেবেছিল, ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব জেতা এক ফুটবল তারকা সৌদি লিগ জিতে এভাবে কাঁদবেন! কিন্তু এ অতৃপ্ত সাফল্য ক্ষুধাই তো রোনালদো।
ম্যাচে সাদিও মানে ও কিংসলে কোমানের গোলে আল নাসর এগিয়ে যাওয়ার পর দামাক এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
কিন্তু যেখানে স্বয়ং রোনালদো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সেখানে রূপকথা তো লেখা হবেই। এরপরই জ্বলে উঠলেন তিনি; করলেন চোখ ধাঁধানো জোড়া গোল। এ জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো আল নাসর। সমান ম্যাচে ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ আল হিলাল। এর আগে সবশেষ তারা জিতেছিল ২০১৮-১৯ মৌসুমে।
আরেক ম্যাচে আল ফায়হাকে ১-০ গোলে হারায় আল হিলাল। আর নাসরের এ জয়ে এবারের লিগে পর্তুগিজ তারকার গোল হলো ২৮টি। হাজার গোলের পানে ছুটে চলা রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল হলো ৯৭৩টি। সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সের ভাষায়, ‘আমি জানতাম, এই শিরোপার জন্য সে কতটা উদগ্রীব ছিল। ’ এবার তার সামনে বিশ্বকাপ। পর্তুগিজ যুবরাজ কি পারবেন তার এ অশ্রুকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিতে রূপান্তর করতে?