
কক্স২৪ নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে দুই ঘণ্টার লড়াই শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে দুই দলের প্রথম পাঁচটি করে শট শেষে সমতা ছিল ৩-৩। সাডেন ডেথে জার্মানির জনাথন টাহ শট বাইরে মারলেও প্যারাগুয়ের হোসে কানালে নিখুঁতভাবে বল জালে পাঠিয়ে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে শুধু নকআউটে ওঠাই নয়, টাইব্রেকারে জার্মানির অপরাজেয় রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। এর আগে বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারে নেমে প্রতিবারই জয় পেয়েছিল জার্মানরা। এবার সেই ধারার ইতি টানল প্যারাগুয়ে।
এই জয়ের নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। টাইব্রেকারে তিনি জার্মানির দুটি শট রুখে দেন। ম্যাচের মূল সময়েও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি।
বোস্টনের ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখলে আধিপত্য ছিল জার্মানির। তবে প্রথম গোলটি আসে প্যারাগুয়ের কাছ থেকেই। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে জার্মানি।
এরপর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় জার্মানরা। হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ ও লিরয় সানের একের পর এক প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক হিল।
অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি একবার বল জালে পাঠিয়েছিল। জনাথন টাহর হেডে গোল হলেও তার আগে ভালডেমার আন্টনের ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই হোঁচট খায় জার্মানি। কাই হাভার্টজের প্রথম শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন হিল। এরপর যোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা সফল হলেও চতুর্থ শটে নিক ভোল্টেমাডের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে প্রথম তিনটি শট সফলভাবে নিলেও চতুর্থ শট বাইরে যায় এবং পঞ্চম শট ম্যানুয়েল ন্যয়ার ঠেকিয়ে দিলে সমতা ফিরে আসে। তবে সাডেন ডেথে হোসে কানালের শটে আর রক্ষা হয়নি জার্মানির। ন্যয়ারও বল আটকাতে পারেননি, আর সেখানেই শেষ হয় জার্মানদের বিশ্বকাপ অভিযান।
২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টানা দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর এবার প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলেই বিদায় নিল। অন্যদিকে ২০১০ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা প্যারাগুয়ে আবারও শেষ আটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী দল।