
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোপরি খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই এসেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি আজ ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার, বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর জোন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে’ এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর এবং ডিএনসিসিতে জামায়াত-মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শান্ত তালুকদার, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান এবং শহীদের পিতা মোশাররফ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হেমায়েত হোসেন, প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, জিয়াউল হাসান, জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা ‘বুকিং’ করার পর অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল। মূলত, জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর সেই ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এই আসলাম।’ এরপর থেকে তিনি বারবার দেশে ফেরার কথা বললেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, ‘আসুন, যুবসমাজ আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’ তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু বিচার নয়, জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং তারা যেন সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন, সে দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কারণ, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি জুলাই শহীদদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের নামকরণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান, যাতে তাঁদের স্বজনরা গর্ববোধ করতে পারেন।
আমীরে জামায়াত বলেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। আমরাও করেছি। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদ—সবই অবৈধ। গোশত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই।
তিনি জনগণের অভিপ্রায়ের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের মতামতই সবার ঊর্ধ্বে। প্রয়োজনের তাগিদের ঊর্ধ্বে কোনো আইন নেই। তিনি সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় এ জন্য সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, গণরায়কে কোনোভাবেই পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। তাই জুলাইয়ের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি জুলাই সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ গ্রহণের কথা—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অপরটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এ পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু সরকার নানা ছলচাতুরি এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে তা পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। অথচ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তাই জনগণ সরকারকে গণরায় পাশ কাটানোর সুযোগ দেবে না; বরং যেকোনো মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করবে। তিনি সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় এ জন্য সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে।