
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে যাদের বার্ষিক বেতনভিত্তিক আয় ছয় লাখ টাকার কম (বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত সুবিধাসহ), তাদের আয়কর দিতে হবে না।
একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) জমা দেওয়ার বিধানও প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। অর্থ বিল-২০২৬ পাসের আগে শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।
নিয়মিত কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের নতুন বিধানও বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় লভ্যাংশ আয়ের ওপর আগের মতোই ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে একক ভ্যাট হার বসানোর চিন্তা থেকেও আপাতত সরে আসছে সরকার। এ ছাড়া বাজেটে আরো কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র। পরিবর্তনগুলো হবে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার অর্থবিল-২০২৬ পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শেষ মুহূর্তে এসব সংশোধনী আনছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। এবার মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরো ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অর্থাৎ এক বছরে করমুক্ত সীমা বেড়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা।