
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার-২০২৬’। Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ জব ফেয়ার স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সংযোগ তৈরিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সকাল থেকেই মিলনায়তনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। চাকরিপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ-সংক্রান্ত তথ্য, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা নেন। একই সঙ্গে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায় আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহীন দেলোয়ার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যবস্থাপক – পিকেএসএফ এবং উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী, রেইজ প্রকল্প জনাব গোলাম জিলানী,আঞ্চলিক পরিচালক, এসএআরপিভি, চট্টগ্রাম ডিভিশন জনাব কাজী মাকসুদুল আলম এবং কেইস ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিষ্ট, রেইজ প্রকল্প, পিকেএসএফ জনাব মোঃ জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ পরিচালক, উন্নয়ন কর্মসূচী, এসএআরপিভি জনাব মোঃ নাজমূল হক নেহাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন দেলোয়ার বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে তরুণদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা, পেশাগত সক্ষমতা এবং সময়োপযোগী জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, তরুণদের চাকরির জন্য শুধু অপেক্ষা না করে নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের জব ফেয়ার তরুণদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেয় এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করে।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও দিকনির্দেশনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারছেন না। এ বাস্তবতায় রেইজ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ ধরনের জব ফেয়ার তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা আরও বলেন, জব ফেয়ার কেবল চাকরি পাওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি চাকরিপ্রত্যাশী, প্রশিক্ষণপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জানতে পারেন—কোন খাতে কী ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, কোথায় কীভাবে আবেদন করতে হবে, নিজেকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে কী ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন এবং কীভাবে পেশাগত জীবন শুরু করা যেতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে মোঃ নাজমূল হক নেহাল বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত কিংবা কর্মহীন তরুণদের মূলধারার কর্মসংস্থানের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। তিনি বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কর্মসংস্থান সংযোগ, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।
মেলায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা জানান, এক ছাদের নিচে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, চাকরির তথ্য, আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত দিকনির্দেশনা পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। অনেকেই বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত এমন জব ফেয়ার আয়োজন করা হলে স্থানীয় বেকারত্ব কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে এবং তারা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চকরিয়ায় আয়োজিত ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি বাস্তবধর্মী উদ্যোগ। অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করার যে লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন, তা বাস্তবায়নে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।