
কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
মার্চ মাসে ইসরায়েলের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত এ স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের বিষয়টি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পার্স অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির প্রধান তৌরাজ দেহকানি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেহকানি বলেন, হামলায় তিনটি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামত কাজ চলাকালে ওই প্ল্যাটফর্মগুলোর উৎপাদিত গ্যাস অঞ্চলের অন্যান্য প্রসেসিং প্ল্যান্টে পাঠানো হচ্ছে।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের অংশ সাউথ পার্সে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর জবাবে ইরানও অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
এরপর এপ্রিলের শুরুতে ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা, দক্ষিণ উপকূলীয় আসালুয়েহ এলাকায় অবস্থিত সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও হামলা চালায় ইসরায়েল।
রোববার তেহরান থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া প্রতিবেদনে সাংবাদিক তোহিদ আসাদি বলেন, সাউথ পার্সে গ্যাস উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়া ইরানের জন্য “প্রতীকী ও বাস্তব—উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।
তিনি বলেন, “ইরান এ বার্তা দিতে চায় যে লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে।” তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় রাজধানী তেহরানের তেল ডিপোসহ দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আসাদি আরও বলেন, “সাউথ পার্স শুধু একটি জ্বালানি প্রকল্প নয়; এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর একটি। তাই এর পুনরায় চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলেও ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি রপ্তানিতে কতটা সফল হবে, তা এখনো দেখার বিষয়। কারণ, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন চুক্তিতে সম্মত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও ইরানের প্রধান আলোচক রোববার জানিয়েছেন, দেশের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না তেহরান।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের উপকূলে অবস্থিত সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানির সবচেয়ে বড় উৎস। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির মুখে থাকা ইরানের জন্য এ গ্যাসক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় ৯ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ গ্যাসক্ষেত্র ইরান ও কাতারের মধ্যে ভাগাভাগি করা। এর ইরানি অংশের নাম সাউথ পার্স, আর কাতারের অংশ পরিচিত নর্থ ফিল্ড নামে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসভাণ্ডার হিসেবে এ ক্ষেত্রের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
সূত্র:আল জাজিরা