
কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। আজ কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয় সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাপাড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি গ্রামটির প্লাবিত রাস্তাঘাট, বাড়িঘর এবং পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের চিত্র সশরীরে প্রত্যক্ষ করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), পেকুয়াসহকারী কমিশনার (ভূমি), পেকুয়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।
পানিবন্দি ও সহায়সম্বলহীন মানুষের তাৎক্ষণিক কষ্ট লাঘবে জেলা প্রশাসক বাংলাপাড়া গ্রামে এক সংক্ষিপ্ত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।চাল, ডাল, তেল, চিঁড়ে, গুড় এবং দিয়াশলাইসহ শুকনো খাবারের প্যাকেট ।পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়।জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া এবং চর্মরোগের মতো প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য মেডিকেল টিমের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ঔষধ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ শেষে জেলা প্রশাসক স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার একজন মানুষও যেন খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান এবং উপজেলা প্রশাসনকে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয়ের তাগিদ দেন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করেন যে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সক্রিয় রয়েছেন। মেডিকেল টিম গঠন করে উপদ্রুত এলাকায় পাঠানো হচ্ছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।