
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পটুয়াখালীর আলোচিত বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘কালো মানিক’ এখন সিলেটে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সিলেট টাইটানস ও বিপিএল সিলেট টিমের উপদেষ্টা প্রবাসী ফাহিম আল চৌধুরী রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাট থেকে কোনো দরদাম না করেই খামারির চাওয়া ২০ লাখ টাকা মূল্যে এটি কিনে নিয়েছেন।
এবারের ঈদুল আজহায় গরুটি মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামেই কুরবানি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কুরবানিতে তার প্রয়াত বাবা-মা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর নামও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সোমবার সন্ধ্যায় ফাহিম আল চৌধুরীর বড়ভাই সেলিম চৌধুরী যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার সম্পূর্ণ দেশীয় খাবারে বড় হওয়া এই কুচকুচে কালো ষাঁড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ৮শ কেজি বা ৪৫ মণ।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের খামারি সোহাগ মৃধা দীর্ঘ সাত বছর ধরে সন্তানের মতো করে গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। বিগত বছরের ৫ জুন তিনি ষাঁড়টিকে উপহার হিসেবে ঢাকায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রদান করেছিলেন। ম্যাডাম উপহারটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে গ্রহণ করলেও খামারির পরিবারের সচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে তা ফেরত দেন এবং ভবিষ্যতে এটি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তার সন্তান জিসান মৃধাকে পুনরায় উপহার দেন।
দিয়াবাড়ি হাটের ইজারাদার শেখ ফরিদ হোসাইন জানান, দেশনেত্রীর আবেগ জড়িত থাকা এই গরুটি হাটে আসার পর ফাহিম আল চৌধুরী খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিনতে ছুটে আসেন।
ফাহিম চৌধুরী তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, যে গরুর স্মৃতি ম্যাডামের সঙ্গে জড়িত এবং যাতে দেশনেত্রীর আবেগ মিশে আছে সেটি কিনতে পেরে তিনি মানসিকভাবে পরম শান্তি বোধ করছেন। ষাঁড়টি কেনার আলোচনার সময় ফাহিম আল চৌধুরী জানতে পারেন যে খামারির মেয়েটি মারাত্মক হৃদরোগে ভুগছেন। এই মানবিক কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দেন যে গরু কেনা হোক বা না হোক খামারির মেয়ের সমস্ত চিকিৎসার ব্যয়ভার তিনি নিজে বহন করবেন।
এই অভাবনীয় সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিক্রেতা সোহাগ মৃধা জানান, বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি বড় একটি গরুর ফার্ম করতে চান এবং একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন।