
মোহাম্মদ রাশেদ চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।
বৈশাখের তপ্ত রোদ আর প্রচণ্ড গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই প্রকৃতিতে প্রশান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া। ঋতুচক্রের আবর্তনে গ্রীষ্মের এই রুক্ষতার মাঝেও গ্রাম-বাংলার পথে-প্রান্তরের গাছগুলো এখন লাল রঙের জাদুতে ছেয়ে গেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পত্রপল্লবের মাঝে যেন প্রকৃতির অগ্নিকুণ্ড জ্বলে উঠেছে।
সরেজমিনে চকরিয়ার বড়ইতলীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেলের রাস্তার ’ধারে এবং প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় সারিবদ্ধ কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। তীব্র তাপদাহে গাছের পাতা ঝরে গেলেও শাখা-প্রশাখা জুড়ে এখন শুধুই ফুলের সমারোহ। বৈশাখের এই দুপুরে পথচারীরা ক্লান্তি ভুলে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াচ্ছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, কৃষ্ণচূড়া (Delonix regia) মূলত গ্রীষ্মকালীন ফুল। বছরের অন্য সময়ে এই গাছটি সাধারণ থাকলেও চৈত্র-বৈশাখ মাসে এটি তার পূর্ণ রূপ ফিরে পায়। এ বছর গরমের তীব্রতা বেশি থাকলেও কৃষ্ণচূড়ার ফলন ও ফুটে থাকা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশ নজরকাড়া।
স্থানীয় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রখর রোদে কৃষ্ণচূড়ার এই লাল আভা শুধু চোখের প্রশান্তিই দেয় না, বরং ঘন শাখা-প্রশাখার ছায়া ক্লান্ত পথিকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। বড়ইতলী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু পুরনো কৃষ্ণচূড়া গাছ এখন পর্যটন ও আড্ডার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশি প্রজাতির অনেক গাছ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও কৃষ্ণচূড়া এখনও তার অস্তিত্ব সদর্পে টিকিয়ে রেখেছে। রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধনে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কৃষ্ণচূড়ার মতো বৃক্ষ রোপণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
গ্রীষ্মের এই কাঠফাটা রোদে এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় যখন চাতক পাখি ব্যাকুল, তখন কৃষ্ণচূড়ার এই রক্তিম হাসি যেন জানান দিচ্ছে—প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপ ও লাবণ্যে সবসময়ই অনন্য। কৃষ্ণচূড়ার এই মোহনীয় রূপ আরও কিছুদিন প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।