
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার ঢাকার কড়াইল বস্তি এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামী এক মাসের মধ্যে কৃষক কার্ডও তুলে দেওয়া হবে। আজকে আমার জন্য একটি ইমোশনাল দিন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উদ্বোধনী বোতাম চেপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জনের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পৌঁছে দেন। প্রতিজনের অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনা মূল্যে করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারীসমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই এখন ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক এলাকার ১৫ হাজার নারীকে কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশের চার কোটি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই দেশ আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সমসাময়িক বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কোনো কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’
আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা।
বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনসহ বেশ কয়েকজন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেগম পারভিন, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জ্যোৎস্না, তসলিমা আখতার, বেগম রাশেদা আখতার, বেগম হোসনা আখতার, রিনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোখসানা আখতার, মোসাম্মাৎ মাহফুজা, বেগম লিনা আখতার, মোসাম্মাৎ সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম, মিনারা বেগমকে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এই ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটা নিয়ে যেন কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। দলমত-নির্বিশেষে সবাই এই কার্ড পাবেন, কিন্তু সবাই টাকা পাবেন না। টাকা পাবেন কেবল হতদরিদ্র। বাকি যারা টাকা পেলেন না, তারা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ডোনেট করলেন।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতেরা।