
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সাংগ্রাই চলছে। উৎসব উপলক্ষে মৈত্রী পানি বর্ষণে বর্নিল উৎসবে মেতে উঠেছেন তরুণ-তরুণী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। এ সময় চারিদিকে মারমা সঙ্গীতের মূর্ছনা, আর নাচ-গানের আনন্দে মেতে ওঠে শিশুসহ সবাই।
তরুণরা তরুণীদের পানি ছিটায়। আবার তরুণীরা পানি ছিটিয়ে প্রতি উত্তর দেয়। এভাবে পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে মৈত্রী পানি বর্ষণে মেতে ওঠে তারা। এই উৎসবে বিদেশিদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বান্দরবান রাজারমাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৈত্রী পানি বর্ষণের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এমপি।
এ সময় বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান, উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপেন দেওয়ানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পাড়ার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিশু থেকে বয়স্ক, সবাই একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় এবং পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলার চেষ্টা করে। আনন্দ-উদ্দীপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বর্ণিল হয়ে ওঠে পুরো বান্দরবান জেলা।
মৈত্রী পানি বর্ষণের পাশাপাশি রাজারমাঠে এক মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীরা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বমসহ বিভিন্ন ভাষায় সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দর্শক, অংশগ্রহণকারী ও মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আয়োজকেরা।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য এলাকার সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জলকেলি উৎসব মারমা সম্প্রদায়ের একটি প্রধান উৎসব এবং এই উৎসবের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি তিনি সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।