
মোঃবজলুর রহমান, ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়া এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে ছাবের আহমেদ (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দিবাগত ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নিজের ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়েছিলেন ছাবের আহমেদ। চেয়ারে বসে আগুন জ্বালিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছিলেন তিনি। হঠাৎ একটি বন্য হাতি তাকে আক্রমণ করে। এতে তার দুই পা, একটি হাত ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমেদের নিথর দেহ পড়ে আছে দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবুল ও রমজান আলি জানান, নিহত ছাবের আহমেদ ছিলেন পরিশ্রমী কৃষক। প্রতিদিনই তিনি রাত জেগে নিজের ফসল পাহারা দিতেন। কিন্তু সেই পাহারাই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিহতের মেয়ে মনজু আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার আয়েই সংসার চলত। এখন আমরা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি আমাদের দেখার মতো কেউ নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ্ জুয়েল বলেন, পরিবারটি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। আমরা সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণে নুরুল আলমের মৃত্যু এবং একই পরিবারের সুনা মেহের ও তার দুই সন্তান নিহত হন। ফলে এলাকায় হাতির আতঙ্ক দিন দিন বেড়েই চলেছে।
রাজঘাট ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম জানান,
সরকারিভাবে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। এজন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক নইলে এমন প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।