
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
ফাঁসির মঞ্চ থেকে খালাস পেয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জামায়াতে ইসলামীর এ প্রবীণ নেতা বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর দিয়েছেন, কিন্তু শপথ নিতে অনীহা প্রকাশ করে জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যত্যয় হলে জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না। জুলাই সনদকে অস্বীকার করা নিজেদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার শামিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চকবাজার দক্ষিণ থানার উদ্যোগে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য ও চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজহারুল ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, মনে রাখবেন, জুলাই সনদ ’২৪–এর জুলাই আন্দোলনের ফসল। আজকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছেন, অথচ জুলাই না হলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশে আসতে পারতেন না। আজকে যারা মন্ত্রী হয়েছেন, তারা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেতেন না। আমরা যারা জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছি, এই সুযোগও আমরা পেতাম না। জুলাই সনদকে অস্বীকার করা মানে জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা।
তিনি আরও বলেন, জাতির অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা। সেই আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জুলাই আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে এক নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদেরকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। যারা সরকার গঠন করেছে, তারা জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকার জনগণের বিপক্ষে গেলে জামায়াত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
এ সময় তিনি রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, আল্লাহ রোজা শুধুমাত্র আমাদের জন্য ফরজ করেননি। বরং রোজা আমাদের পূর্ববর্তী সকল জাতি-গোষ্ঠী ও গোত্রের জন্য ফরজ ছিল। আল্লাহ নিজে ঘোষণা দিয়েছেন, আশা করা যায় রোজা তোমাদের সফলকাম করবে। এই সফলকাম হতে হবে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য। রোজা পালনের মাধ্যমে আমাদের পরিবর্তন হতে হবে। নিজের মাঝে যত অন্যায়-অনাচার আছে, রোজা পালনের মাধ্যমে সেই সব অন্যায়-অনাচার থেকে ফিরে আসতে হবে। রোজার শিক্ষায় জীবন গড়তে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির শিক্ষাবিদ আব্দুস সবুর ফকির এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।