
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল গণনার সময় ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের বিজয় ঠেকাতে প্রায় ৫০টিরও বেশি আসনে পরিকল্পিতভাবে সামান্য ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইনসাফ ও সত্য উন্মোচনের লক্ষ্যে দলটি এখন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবে।
শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মোড়ের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা বা বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ছিল না। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু রাত ৯টার পর রহস্যজনকভাবে মিডিয়াতে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূলত ভোট গণনা, ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার সময় কারচুপি করা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোট শেষ হওয়ার আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়েছেন এবং পরে রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা করে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
জামায়াত নেতা বলেন, দেশের ৫০টিরও বেশি সংসদীয় আসনে আমাদের প্রার্থীদের ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেসব আসনের ব্যালট পেপার হেফাজত করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।
১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদে জনগণের কথা বলব। সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করব, কিন্তু জুলুম ও অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাব।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এসব সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে দলীয়করণ না করার জন্য সরকারকে সতর্ক করেন তিনি।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম, মহানগর নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, আনোয়ার হাসান সুজনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।