
কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, যেকোনো জাতির অগ্রগতির পেছনে জ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবীদের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে এসে পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়, যাতে এই জাতি আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।
আজ বিকাল ৪টায় নগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জামালখানস্থ কার্যালয়ে নগর ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা সঞ্চালনা করেন ফেডারেশনের নগর সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নগর ফেডারেশনের মকবুল আহমদ ভূঁইয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুন্নবী, দপ্তর সম্পাদক স. ম. শামীম, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহীম মানিক, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মজুমদার, এবং আইন ও আদালত সম্পাদক সাব্বির আহমদ উসমানীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এস এম লুৎফর রহমান বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত আজও সম্পন্ন হয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ মতাদর্শের ওপর এই হত্যাকাণ্ডের দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাস কখনো চাপা দিয়ে রাখা যায় না। একদিন সত্য উদঘাটিত হবেই।”
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে একদলীয় বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও দেশের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। “মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তি বা দলের সম্পদ নয়; এটি পুরো জাতির অর্জন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্বিত এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন,” বলেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মানুষের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা—তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে।”
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “কোনো ভয় দেখিয়ে এদেশের মানুষকে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা থেকে বিরত রাখা যাবে না। ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারীদের পক্ষেই শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ রায় দেবে।”