কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ ইরান। প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে তাদের উৎকণ্ঠায়। এর মাঝে খানিকটা সুখের উপলক্ষ হয়ে এসেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে বৈশ্বিক এই আসরেও প্রতিটি মুহূর্তে যুদ্ধ করতে হচ্ছে ইরানকে।
বিশ্বকাপের পুরনো মুখ ইরান। আগেও খেলেছে ছয়টি আসরে। ফুটবল র্যাঙ্কিংয়েও তারা আছে সেরা বিশে। তবুও এবারের বিশ্বকাপটা অন্যরকম ইরান আর ইরানি ফুটবলারদের জন্য।
এবারের বিশ্বকাপটাও যেন তাদের জন্য একটা যুদ্ধ। বৈষম্য, বৈপরীত্য, ভিন্ন রীতি-নীতি আর নানা প্রতিবন্ধকতার পাহাড় মাথায় চাপিয়ে তারা পা রেখেছে বিশ্বমঞ্চে। কাল খেলবে নিজেদের প্রথম ম্যাচটাও।
লস অ্যাঞ্জেলসে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। জি গ্রুপ থেকে তাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। গ্রুপের অপর দুই দল বেলজিয়াম ও মিসর।
এবারের বিশ্বকাপ খেলছে ৪৮টি দেশ, বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে সমগ্র বিশ্বের কয়েক লাখ মানুষ। তবে সবার থেকে যেন আলাদা ইরান ও ইরানিরা। সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা।
অংশগ্রহণকারী বাকি ৪৭ দেশের জন্য এক নিয়ম আর ইরানের জন্যই যেন আরেক নিয়ম। সবাইকে সাদরে যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করে নিলেও ইরানের চলার পথে যেন বিছানো হয়েছে কাঁটা।
ভিসা, অনুশীলন, হোটেল- এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ঝামেলা করছে না। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও যেন এখানে নীরব, তাদের হাত-পাও যেন বাঁধা। চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারছে না।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলনের অনুমতিও মেলেনি ইরান দলের। মেক্সিকোতে ফেলতে হয়েছে তাঁবু। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ম্যাচ খেলতে হবে, ম্যাচ শেষে ফিরেও যেতে হবে! এভাবেও বিশ্বকাপ খেলা যায়!
তবুও দেশবাসীর মুখে একটুখানি হাসি এনে দিতে এতো বঞ্চনা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ খেলছে ইরান। তবে এতো এতো বৈষম্য আর অনিয়ম নিয়ে আক্ষেপ লুকাতে পারলেন না ইরান দলের অধিনায়ক ও কোচ।
যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের সমালোচনা করে ইরান কোচ আমির ঘালেনোয়ি বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ ফুটবলের চেতনাকে নেতিবাচক প্রভাবিত করে। আমরা জিতি কিংবা হারি, এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য মেনে নেয়া কঠিন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফুটবল মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়ায়। বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতিকে একত্র করে। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে, তবে আমি চেষ্টা করেছি খেলোয়াড়দের কৌশল ও খেলার দিকেই মনোযোগ ধরে রাখতে।’
এসব ঘটনা বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্ট করছে বলে মনে করেন ইরানি ফুটবলার মেহদি তারেমি। তার ভাষায়, যখন এমন পরিস্থিতি থাকে, তখন বিশ্বকাপের সেই আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না।
তারেমি বলেন, ‘এই ধরনের উত্তেজনা ফুটবলের আনন্দকে নষ্ট করে। ফুটবল শান্তির বার্তা বহন করে- এই ধারণাকেও দুর্বল করে দেয়। আমি মনে করি, এবারের বিশ্বকাপ আরো সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারত।’
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে এক দিন আগে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পা রেখেছে ইরানের ফুটবল দল। এর মাঝেই আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন আসে তারা।
সেই দলের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতির প্রসঙ্গ আসারই কথা। আর তা এতটাই বেশি এসেছে যে, দলটির খেলোয়াড় মেহদি তারেমি একপর্যায়ে বলেই ফেললেন, কেউ তো ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন করলেন না!
যাইহোক, এতো বাধা-বিপত্তির মাঝেই বিশ্বকাপ নিয়ে তেরেমিদের লক্ষ্য একটাই- দেশে ও দেশের বাইরে থাকা সকল ইরানির মুখে হাসি ফোটানো; তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Aussie punters can play thepokie net around the clock, with hundreds of pokies from leading software providers.
Try this — https://tower.bet/game/royale-house for real money casino play