কক্স২৪ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
মুসলিম বিশ্ব যখন নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইসলামের সর্বপবিত্র স্থান কাবা শরীফ-এ প্রতিবছরের মতো নতুন কিসওয়া পরানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এই ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় গুরুত্বই বহন করে না, বরং এটি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মসজিদুল হারামের প্রতি বিশেষ যত্ন ও কিসওয়া তৈরির সূক্ষ্ম কারিগরি দক্ষতারও অনন্য নিদর্শন।
কিসওয়া তৈরির কাজ শুরু হয় অনেক মাস আগে, কিং আবদুলআজিজ কমপ্লেক্স ফর দ্য কিসওয়া অব দ্য হোলি কাবা-এ। এখানে দক্ষ কারিগররা বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক সিল্ক ব্যবহার করে কিসওয়া তৈরি করেন এবং তাতে স্বর্ণ ও রৌপ্য-প্রলেপযুক্ত সূতা দিয়ে সূক্ষ্ম নকশা ও কুরআনের আয়াত খোদাই করেন।
প্রতিস্থাপনের সময় যত ঘনিয়ে আসে, মসজিদুল হারামে প্রস্তুতিও তত জোরদার হয়। নতুন কিসওয়ার অংশগুলো নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বিশেষজ্ঞরা সূচিকর্ম, ইসলামী নকশা ও কুরআনের আয়াতসমূহের চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রতিস্থাপনের আগের রাতে প্রকৌশলী ও কারিগরি দল সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ সম্পাদনের জন্য প্রস্তুত থাকে।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয় পুরোনো কিসওয়ার স্বর্ণখচিত অংশ ও অলংকার অপসারণের মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে পুরোনো কাপড় সরিয়ে নতুন কিসওয়া চারদিক থেকে টুকরো টুকরো করে স্থাপন করা হয়। পুরো কাজটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করে করা হয়, যাতে প্রতিটি অংশ নিখুঁতভাবে মিলিত হয়।
একই রাতে কাবার চারপাশে বেষ্টনী আকৃতির সূচিকর্ম করা বেল্ট (হিজাম) এবং দরজার পর্দা (সিতারা) স্থাপন করা হয়, যা কিসওয়ার অন্যতম সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
এই আয়োজনটি কেবল একটি প্রথা নয়—এটি ইসলামী ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও গভীর আবেগের প্রতীক। কিসওয়া প্রতিস্থাপন মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরীফের গুরুত্বকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পবিত্র দুই মসজিদের প্রতি নিবেদিত সেবার প্রতিফলন ঘটায়।
মুহাররম মাসের প্রথম দিনের ভোরে, নতুন কিসওয়ায় আবৃত হয়ে কাবা শরীফ নতুন হিজরি বছরের সূচনাকে স্বাগত জানায়। এই বার্ষিক আয়োজন ইসলামের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত