কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তার (নেতানিয়াহুর) কোনো বিকল্প থাকবে না। সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই। আমিই সব সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন না।”
এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ইচ্ছা বদলায়নি বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হামলাটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন জানিয়ে চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতে হিজবুল্লাহর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর আগে তিনি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাতে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করবে না।
তিনি বলেন, “এটি চুক্তির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কী হয়, তা দেখা যাবে। কিন্তু এই হামলাগুলো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের পথেও যেতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “চুক্তি না হলে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, আমরা সামরিকভাবে বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করতে পারি। দ্বিতীয়ত, ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। আমার মতে, এই অবরোধ দেশটির বিরুদ্ধে পরিচালিত যেকোনো সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত