কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
পাকিস্তানের করাচিতে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটিতে আরও কয়েকটি বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
পাকিস্তান সরকার বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি করাচি বন্দরের জলসীমা সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একটি সামুদ্রিক ব্যবসা জেলা গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করতে সৌদি ও পাকিস্তানি অংশীদারদের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান।
বর্তমানে একটি সৌদি প্রতিনিধিদল পাকিস্তান সফর করছে। এ সময় গওয়াদর বন্দরে একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সৌদি আরবকে কৌশলগত তেল মজুতাগার স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের কিছু খনি ইজারা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। দেশটি ইতোমধ্যে করাচির একটি বন্দর টার্মিনাল ৫০ বছরের চুক্তিতে পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। এখন সৌদি আরব পাকিস্তানে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।
পাকিস্তানের সামুদ্রিকবিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মদ জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী জানিয়েছেন, করাচি পোর্ট ট্রাস্ট, সৌদি বিজনেস কাউন্সিল-নাজদ গেটওয়ে হোল্ডিং কোম্পানি, আরিফ হাবিব ডলমেন রিট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং পাকিস্তান করপোরেট কনসোর্টিয়ামের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি বলেন, করাচি পোর্ট ট্রাস্টের মালিকানাধীন ১৪০ একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এম টি খান রোড সংলগ্ন এই এলাকাকে একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সমঝোতা স্মারকের আওতায় পাকিস্তান বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং পার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি একটি ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন জোন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইসলামি অর্থায়ন কেন্দ্র এবং ব্যাংকিং ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সামুদ্রিক লজিস্টিকস খাতে সহযোগিতার জন্য একটি মেরিন প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস জোন এবং স্মার্ট পোর্ট ইন্টিগ্রেশন জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল কাস্টমস ও শিপিং সেবা চালু করা হবে এবং সামুদ্রিক সফটওয়্যার উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল, একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সামুদ্রিক ও বাণিজ্য আইনবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আকাশচুম্বী ভবন, কনভেনশন সেন্টার, বিলাসবহুল হোটেল এবং করপোরেট হাব নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী জুনাইদ আনোয়ার চৌধুরী বলেন, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘করাচি বন্দরের জলসীমা সংলগ্ন সম্পদের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং পাকিস্তানকে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি রূপান্তরমূলক সুযোগ।’
চৌধুরী আরও জানান, পাকিস্তানের বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সৌদি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও বন্দর অবকাঠামোসহ সামুদ্রিক খাতে বিস্তৃত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত