কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে আরো সমৃদ্ধ ও সংরক্ষিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী বলেন, মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে তার ভূমিকা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। তার স্মৃতি রক্ষার্থেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় অনেক কক্ষ খালি রয়েছে। সংস্কার শেষে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত আরো নিদর্শন এখানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ইতিহাস যদি আমরা না জানি, তাহলে জাতি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারব না। এ কারণে শতবর্ষী এই ভবনটিকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা (হেরিটেজ) হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এর নাম পরিবর্তন করে স্বাধীনতা কমপ্লেক্স করেছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আগের নাম পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে এর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে পুনরায় জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স হিসেবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর ও জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের ইতিহাস জানা জরুরি এবং ইতিহাস না জেনে কোনো জাতি নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে না।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার স্মৃতি ধরে রাখতে ২০০৬ সালে ১৬ দশমিক ৩৭ একর জমির ওপর ‘জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এর নাম পরিবর্তন করে ‘স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ রাখা হয়।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত