কক্স২৪ নিউজ ডেস্ক।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের প্রধান সড়কের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। বর্ষা মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু না হলেও সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, কাদা ও ভাঙনের কারণে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এরই মধ্যে বন্দর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটছে, ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিরাপদ বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করে বন্দর প্রকল্পের কাজ শুরু করা একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। তারা বলছেন, একটি এলাকার প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না। বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ব্যবসায়ী, কৃষক ও পরিবহন চালকরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনেও নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে, বন্দর উন্নয়ন কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে প্রথমে জনসাধারণের চলাচলের জন্য নিরাপদ ও টেকসই সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিকল্প সড়ক নির্মাণ অথবা বিদ্যমান সড়কের জরুরি সংস্কার সম্পন্ন করার পরই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করা উচিত।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি— “আগে চলাচলের রাস্তা সংস্কার করুন, তারপর বন্দরের কাজ করুন।” জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত