কক্স২৪ নিউজ আন্তর্জাতিক বার্তা ডেস্ক।
পবিত্র হজের শেষ প্রান্তে এসে আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও বিদায়ের অনুভূতিতে ভরে উঠেছে মক্কার আকাশ-বাতাস। আজ জুমার খুতবায় Sheikh Bandar Baleelah বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হজযাত্রীর জন্য বিশেষ দোয়া করেন। একই সঙ্গে হাজিদের কষ্ট ও ক্লান্তির কথা বিবেচনায় রেখে তিনি জুমার সালাত সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন, যা মুসল্লিদের মাঝে স্বস্তি এনে দেয়।
খুতবায় তিনি আল্লাহর দরবারে হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন এবং তাদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার তাওফিক কামনা করেন। তার আবেগঘন দোয়ায় উপস্থিত বহু হাজিকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়।
এদিকে মিনায় অবস্থানরত হাজিরা আজ জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর তারা পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফের মাধ্যমে বিদায়ী তাওয়াফ আদায় করবেন। হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাগুলো শেষ করে এখন ধীরে ধীরে নিজ নিজ দেশের পথে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মুসল্লি।
পবিত্র হজ মুসলমানদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। বহু মানুষ দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, অপেক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে একবারের জন্য হলেও হজ পালনের সুযোগ পান। তাই বিদায়ের এই মুহূর্তে অনেক হাজির হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের মধ্যে এমন অনুভূতি আরও গভীর—কারণ তাদের অনেকেই মনে করেন, হয়তো জীবনে আর কখনো Masjid al-Haram ও Al-Masjid an-Nabawi-এর পবিত্র প্রাঙ্গণে ফিরে আসার সুযোগ হবে না।
কাবাঘরের দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে অনেক হাজিকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। কেউ দোয়া করছেন পরিবারের জন্য, কেউবা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করছেন। বিদায়ী তাওয়াফের সময় “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনি আর অশ্রুসিক্ত চোখে যেন ফুটে উঠেছে মুসলিম উম্মাহর এক অনন্য ঐক্য ও আত্মসমর্পণের দৃশ্য।
হজ শেষে দেশে ফেরার আগে হাজিরা মক্কা ও মদিনার স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে নিয়ে যাচ্ছেন এক অমূল্য আত্মিক প্রশান্তি। তাদের প্রত্যাশা—আল্লাহ যেন এই হজ কবুল করেন এবং আবারও হারামাইনের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করেন।
সূত্র: haramain archive
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত