কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এবার এক নজিরবিহীন ও সংহতিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের আইনজীবীরা। ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) কোনো আইনজীবী এই মামলায় অভিযুক্ত আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার ঢাকা বারের একাধিক জ্যেষ্ঠ ও তরুণ আইনজীবী এক যৌথ ঘোষণায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আইনজীবীরা মনে করেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য ও বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িতদের পক্ষে দাঁড়ানো কেবল আইনি পেশার নৈতিকতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, "আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করি। রামিসার মতো একজন নারীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অপরাধীরা কোনো আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নয়। সমাজ ও বিবেক আমাদের ডাক দিয়েছে, তাই আমরা আসামিপক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আইনজীবীদের এই সাহসী ও নৈতিক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীসহ সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন, এটি অপরাধীদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বিচারপ্রার্থীরা মনে করছেন, অভিযুক্তরা যদি আইনি লড়াইয়ের সুযোগ না পায়, তবে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।
রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার তদন্তে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং দেশের প্রতিটি প্রান্তে এই নৃশংসতার বিচার দাবি করা হচ্ছে। আইনজীবীদের এই ঘোষণা বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত