কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
বাংলার ঋতুচক্রে জ্যৈষ্ঠ আসে এক ভিন্ন রূপ ও রস নিয়ে। বৈশাখের রুদ্ররূপ কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন গ্রীষ্মের প্রখরতা তুঙ্গে ওঠে, তখনই ডালপালা ভরে ওঠে নানা স্বাদের রসালো ফলে। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে জনপদ। আর এ কারণেই জ্যৈষ্ঠকে বলা হয় ‘মধুমাস’। আজ ১৫ মে, জ্যৈষ্ঠের এই সূচনালগ্নে গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই এখন ফলের সুবাসে মাতোয়ারা।
জ্যৈষ্ঠের প্রকৃতিতে যেমন রয়েছে প্রচণ্ড দাবদাহ, তেমনি রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, তখনই জ্যৈষ্ঠের হাওয়া বয়ে নিয়ে আসে পাকা ফলের ঘ্রাণ। এ সময় মাঝেমধ্যেই বিকেলে আকাশ কালো করে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়, যা তপ্ত ধরণীকে শীতল করে দিয়ে যায়।
জ্যৈষ্ঠ মানেই ফলের উৎসব। বাজারের ঝুড়ি থেকে শুরু করে গৃহস্থের উঠান—সবখানেই এখন শোভা পাচ্ছে হরেক রকমের ফল:
আমের মেলা: হরেক জাতের আম যেমন—গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ক্ষীরশাপাত এখন পাকার অপেক্ষায় বা বাজারে আসতে শুরু করেছে।
রঙিন লিচু: থোকায় থোকায় লাল লিচু এখন বাগানের প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে দিনাজপুরের লিচু এই সময়ে রসনাতৃপ্তিতে সেরা।
কাঁঠালের সুবাস: জাতীয় ফল কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধ জানান দিচ্ছে মধুমাসের পূর্ণতা।
অন্যান্য ফল: কালো জাম, জামরুল, তালের শাঁস এবং তরমুজও এই সময়ের ক্লান্তি দূর করতে অনন্য ভূমিকা রাখে।
মধুমাস কেবল রসনাবিলাসের নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ফল চাষিরা এই মাসটির দিকে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন। বাজারগুলোতে ফলের সরবরাহ বাড়ায় বাড়ে বাণিজ্যিক ব্যস্ততা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া বা অতিবৃষ্টি কখনো কখনো চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়।
সামাজিক দিক থেকে এই মাসটি ‘জামাই ষষ্ঠী’ বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ‘ফল পাঠানোর’ ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। বাঙালির ঘরে ঘরে আম-দুধ আর মুড়ি খাওয়ার সেই চিরচেনা দৃশ্য জ্যৈষ্ঠের বিকেলেই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
জ্যৈষ্ঠের তপ্ত হাওয়ায় যখন আমের ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায়, তখন বাঙালির মনে এক নির্মল প্রশান্তি নেমে আসে। যান্ত্রিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও মধুমাসের এই সতেজতা আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রকৃতির এই দান আর রসালো ফলের সমারোহে জ্যৈষ্ঠ হয়ে উঠুক আনন্দময়।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত