মোহাম্মদ রাশেদ চকরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দিন দিন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠছে ‘মারসা পরিবহন’। গত শনিবার (৯ মে) সকালে লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় একই কোম্পানির দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ রোববার সকালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুনতি ইউনিয়নের ‘হোটেল ফোর সিজন’-এর সামনে চট্টগ্রামমুখী একটি মারসা বাসের সাথে কক্সবাজারমুখী অপর একটি মারসা বাসের প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বাসের চালক একে অপরের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারান। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং একটি বাস রাস্তার পাশের দোকানে ঢুকে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে পটিয়ার রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহের জিহাদ ও নাঈম ইসলাম এবং ভোলার মনিরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুরুতর আহত আরও ১০-১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর রোববার সকালে চুনতি এলাকায় মারসা পরিবহনের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় জনতা। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, মারসা পরিবহনের চালকরা নিয়মিত ট্রাফিক আইন অমান্য করে এবং মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। বিক্ষোভকারী আবুল কালাম বলেন, "এরা বাস চালায় না, যেন দানব চালায়। রাস্তায় অন্য কোনো গাড়িকে এরা তোয়াক্কাই করে না।"
পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জানান, দুর্ঘটনার সাথে জড়িত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং মারসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে।
অর্ধশ
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে এই রুটে মারসা পরিবহনের অন্তত ৫০টি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। একসময় জনপ্রিয় এই পরিবহনটি এখন যাত্রীদের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে এই রুটে মারসা বাসের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের স্থানীয় কর্মীরা বলছেনা, মহাসড়কে পরিবহনের এমন নৈরাজ্য বন্ধ করতে হলে কেবল মামলা বা জরিমানা নয়, স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত