সম্পাদকীয় কালাম
আজ বিশ্ব মা দিবস। ক্যালেন্ডারের পাতায় মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারটি বিশেষভাবে চিহ্নিত থাকে পৃথিবীর সেই মানুষটির জন্য, যার ত্যাগের কোনো পরিমাপ নেই। প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি পালিত হচ্ছে নানা আনুষ্ঠানিকতা ও আবেগের মধ্য দিয়ে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একটি নির্দিষ্ট দিন কি মায়ের প্রতি আমাদের ঋণের সামান্য অংশও শোধ করতে পারে?
একজন মা শুধু সন্তান জন্মদানই করেন না, বরং নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে গড়ে তোলেন একটি নতুন প্রাণ। শৈশবের প্রথম বুলি থেকে শুরু করে যৌবনের কঠিন পথচলা পর্যন্ত মায়ের দোয়া ও আশ্রয়ই সন্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে মায়েদের সংগ্রাম আরও বহুমুখী। সংসার সামলানো, সন্তান লালন-পালন এবং ক্ষেত্রবিশেষে পেশাগত দায়িত্ব পালন—সবখানেই মায়েরা নিভৃতে বিশাল অবদান রাখছেন।
উন্নয়ন ও আধুনিকতার এই যুগে পারিবারিক কাঠামোয় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আমরা আজ যান্ত্রিক জীবনের ইঁদুর দৌড়ে এতটাই ব্যস্ত যে, অনেক সময় পাশে থাকা মাকেও সময় দিতে পারি না। সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে। যে মা সারাজীবন আগলে রাখলেন, শেষ বয়সে তাকে একাকীত্বের ছায়ায় ঠেলে দেওয়া সভ্য সমাজের জন্য এক বড় গ্লানি।
মা দিবস পালনের সার্থকতা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি আপলোড বা উপহার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বরং এই দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রতিটি দিন মাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেওয়া। সন্তানদের মাঝে ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবেও মায়েদের অধিকার ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মায়েরা কোনো বিশেষ দিনের জন্য নন, তারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের চালিকাশক্তি। আজকের এই সম্পাদকীয়র মাধ্যমে আমরা আহ্বান জানাই—বৃদ্ধাশ্রম নয়, মায়ের আশ্রয় হোক সন্তানের পরম মমতায় ঘেরা আপন নীড়। পৃথিবীর সকল মায়ের মুখে হাসি অটুট থাকুক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে উঠুক তাঁদের প্রতিটি দিন।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত