কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
বাইরে এখন তীব্র রোদের আঁচ। সঙ্গে গা পোড়ানো গরম। এ সময় কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত সারা শরীরে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। বাজারে এখন কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। দামও নাগালে। কাজেই কাঁচা আমের শরবতে প্রাণটাকে শীতল আর শরীরটাকে চাঙা করার সুযোগ রয়েছে।
পুষ্টিবিদেরা বলেন, কাঁচা বা পাকা দুই ধরনের আমই শরীরের জন্য ভালো৷ আম কাঁচা বা পাকা যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন, শরীরের জন্য এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে। কাঁচা আম বা আমের রসে পটাশিয়াম থাকায় প্রচণ্ড গরমে তা শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কাঁচা আমের গুণ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদেরা বলেন, ১০০ গ্রাম কাঁচা আমে পটাশিয়াম থাকে ৪৪ ক্যালরি। এ ছাড়া ৫৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ২৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। কাঁচা আমের আরও কিছু গুণের কথা জেনে নিন।
শরীরের ওজন কমাতেঃ
পাকা আমের চেয়ে কাঁচা আমে চিনি কম থাকে বলে এটি দেহে খুব কম ক্যালরি সরবরাহ করে থাকে। তাছাড়া এটি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়াতেও সাহায্য করে। তাই যাঁরা ওজন কমাতে বা শরীরের বাড়তি ক্যালরি খরচ করতে চান, তাঁদের জন্য কাঁচা আম একটি আদর্শ ফল।
লিভারের সমস্যা দূর করতেঃ
কাঁচা আম খেলে পিত্ত থলির এসিড ও পিত্ত রস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর হয়। তাই লিভারের রোগ নিরাময়ের একটি প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে কাঁচা আম।
ভিটামিন সিঃ
কাঁচা আমে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সাহায্য করে, ফলে হাড় হয় শক্তিশালী। তাছাড়া ভিটামিন সি শরীরকে ইনফ্লামেশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে, নতুন রক্ত কণিকা সৃষ্টিতে সাহায্য করে, আয়রনের শোষণে এবং রক্তপাতের প্রবণতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
গ্যাসের সমস্যা দূর করতেঃ
খাদ্যাভ্যাসের জন্য বেশিরভাগ মানুষই পেটে গ্যাসের সমস্যায় ভুগে থাকেন। কাঁচা আমে গ্যালিক অ্যাসিড থাকার কারণে তা হজম প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে৷ তাই কাঁচা আম খেলে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় খুব দ্রুত।
মাড়ির রক্ত পড়া ও স্কার্ভিরোধ করতেঃ
কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি থাকে যা স্কার্ভি ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায়। তাছাড়া নিশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় রোধেও সহায়তা করে কাঁচা আম।
ঘামাচি প্রতিরোধ করতেঃ
ঘামাচি গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে অস্বস্তিকর ব্যাপার। কাঁচা আমের পুষ্টি উপাদান ঘামাচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাছাড়া কাঁচা আমে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা সানস্ট্রোক হতে বাধা দেয়।
ঘাম কমাতেঃ
কাঁচা আমের জুস খেয়ে ঘামের মাত্রা কমানো যায়। শরীরে অতিরিক্ত ঘামের ফলে সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং আয়রন কমতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করে কাঁচা আম।
তাছাড়া কাঁচা আমে প্রচুর আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা সমস্যা সমাধানে বেশ উপকারী। এবং কাঁচা আমে থাকা আলফা ক্যারোটিন ও বিটা ক্যারোটিনের মত ফ্লাভনয়েড দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়।
সতর্কতাঃ
অতিরিক্ত কাঁচা আম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ তাছাড়া কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে সংক্রমণ হতে পারে। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকবেন।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত