বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যখন পশ্চিমারা সামরিক বলপ্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি বিশেষ প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির চেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে বেইজিং ও মস্কো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়া ও চীন তাদের বিশেষ ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করায় প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েও শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়।
প্রস্তাবটির প্রাথমিক খসড়ায় জাতিসংঘ সনদের শক্তিশালী ‘অধ্যায় ৭’ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। এই ধারাটি কার্যকর হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আইনি বৈধতা পেত। তবে শুরু থেকেই এই ধারার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল রাশিয়া ও চীন।
তাদের অনড় অবস্থানের কারণে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবের ভাষা কিছুটা নরম করে সরাসরি ‘বলপ্রয়োগের’ পরিবর্তে ‘প্রতিরক্ষামূলকভাবে সমন্বয়’ করার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটির অন্যতম সমর্থক দেশ বাহরাইন আশা করেছিল, নমনীয় ভাষার কারণে অন্তত রাশিয়া ও চীন ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা সরাসরি প্রস্তাবটি আটকে দিয়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেয়।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ভেটোর মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন বিশ্ববাসীকে আবারও এক শক্তিশালী বার্তা দিল। তারা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে, যেকোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা একতরফা সামরিক পদক্ষেপের মুখে তারা সরাসরি ইরানের পাশে থাকবে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ও কলাম্বিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও দুই পরাশক্তির বিরোধিতায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত