কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
কক্সবাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক জুলাই যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কবিতাচত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খোরশেদ আলম কক্সবাজার পৌরসভার ইসুলুর ঘোনার বাসিন্দা শাহ্ আলমের ছেলে। খোরশেদ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সময় নিহতের সঙ্গে থাকা তারিন নামের এক নারী সমন্বয়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিতাচত্বর এলাকায় খোরশেদ অবস্থান করছিল। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা তার ওপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার বন্ধু শাহ্ আলম ও সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, নিহতের পেটে ও পায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এদিকে নিহত খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, তিনি মোহাজেরপাড়ায় নিজের বাসার সামনে লুডু খেলছিলেন। তারিন নামে একজন মোবাইলে ফোন করে জানান, কবিতাচত্বর পয়েন্টে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কবিতাচত্বর ও শৈবাল পয়েন্টের মাঝামাঝি গিয়ে খোরশেদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পাশে ছিলেন তারিন। যিনি তখন চিৎকার করে আশপাশের মানুষের সহায়তা চাইছিলেন।
ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন শাহজাহান।
তিনি আরও জানান, খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি বারবার পানি চাইছিলেন।
শাহজাহান বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগে তারিনকে জিজ্ঞেস করলে জানায়, দুজন যুবক খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে এবং তারা ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালিদ বিন সাঈদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ভিন্ন খাতে নেওয়া যাবে না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেসব ফুটেজ সংগ্রহ করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকা কর্মীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই কক্সবাজার শহরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল করে এবং জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। হাসপাতালের সামনেও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন।
এ সময় কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিদুয়ানুল হক অভিযোগ করেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত