কক্স২৪নিউজ ডেস্ক।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, কেবল হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। কুরআনকে অনুসরণ করতে হবে, মানতে হবে। কুরআনের হুকুমকে জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘হিফযুল কুরআন ও কুরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা-২০২৬’ (সিজন-২)-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সবকিছুর মালিক আল্লাহ। তিনি সকল ক্ষমতার মালিক। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের রিজিকের ব্যবস্থাও তিনিই করেন। যতবেশি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হবে, তিনি ততবেশি রহমত ও দয়া করবেন। তিনি আমাদের কানে শোনা, সেটা মনে রাখা এবং যথাসময়ে সেটা স্মরণ করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। চোখের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা তিনিই করে দিয়েছেন।

ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, আল্লাহ একটি জালিম সরকারের হাত থেকে আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন এবং কুদরতিভাবে আমাদের ক্ষমতায় আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি যা চান তাই-ই হয়ে থাকে।
কুরআন শিক্ষায় কওমি মাদ্রাসার অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, এদেশে কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাদের সংগঠিত এবং সহযোগিতা করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তারা সমগ্র বাংলাদেশে কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, রমজান মাস রহমত ও বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহ কুরআন নাজিল করেছেন। এ মাসে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য তিনি ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান।
বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসারে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম সংযোজন করেছিলেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস-এটিও তিনিই সংবিধানে সন্নিবেশ করেন। তিনিই ওআইসি ও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন। আলেম-ওলামাদের সাথেও বেগম খালেদা জিয়ার সুসম্পর্ক ছিলো।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচকের বক্তৃতা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। অন্যান্যের মধ্যে মাহাদুল ক্বিরাত বাংলাদেশের পরিচালক হাফেজ মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ আযহারী বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চারটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অনুর্ধ্ব ২৫ বছর বয়সী কুরআনের হাফেজ, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অনূর্ধ্ব ১৮ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি গ্রুপের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান বিজয়ীদেরকে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া, ৪র্থ হতে ১০ম স্থান অর্জনকারীদেরকে আকর্ষণীয় গিফট সামগ্রী প্রদান করা হয়।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ বাকী উল্লাহ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত